6.23.2012

তালায় শালিখা নদী খননে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ


তালায় শালিখা নদী খননে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ

জুন 15, 2012

নিজস্ব প্রতিনিধি ঃসাতক্ষীরার তালায় কপোতাক্ষ নদের জলাবদ্ধতা দুরীকরণ
প্রকেল্পর (১ম পর্যায়ে) আওতায় ১০ কোটি টাকা ব্যায়ে শালিখা নদী খননে
ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ প্রকল্পে ৫ টি ঠিকাদারী
প্রতিষ্টান’র ১৫ টি স্কেবেটর মেশিন খনন কাজ করছে। বাস্তবে খনন করা
হচ্ছে,গভীর ১ থেকে দেড় মিটার (৪ থেকে ৫ ফুট),তলা চওড়া ১৮ মিটার (৬০ ফুট)
এবং উপরে চওড়া (টব) ২১ মিটার (৭০ ফুট) পর্যন্ত। আর মূল নদীর সীমানা
চিহ্নিত করে তার মাঝ দিয়ে খনন করার কথা থাকলেও তা করা হচ্ছে না। যে কারনে
ব্যক্তি মালিকানা জমির উপর দিয়ে খনন কাজ চলছে। ঠিকাদাররা তাদের ইচ্ছা
মাফিক কাজ করছে। সবমিলিয়ে খনন কাজের কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে না।
গতকাল রবিবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে এমনই চিত্র চোঁখে পড়েছে। অথচ কাজ
তদারকি করার দয়িত্বে থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর কর্মকর্তারা
রয়েছে কম্ভুকর্ণে ঘুমিয়ে।
খনন কাজের কার্যাদেশে উল্লেখ আছে,খালটি ৩ (আগা) থেকে ৪ (গুড়া) মিটার গভীর
(১০/১৪ ফুট),৩০ মিটার তলা চওড়া (১শ’ ফুট) ও ৪২ মিটার উপরের চওড়া (১৪০
ফুট)। আর সিএস রেকর্ড অনুযায়ী মূল নদীর সীমানা চিহ্নিত করে তার মাঝ দিয়ে
খনন এবং কপোতাক্ষের সংযোগ স্থল থেকে ১.৫ কিঃমিঃ নদীর মুখ বন্ধ রেখে খননের
কথা রয়েছে। অথচ পানি উন্নয়ন বোর্ড একটি সাজানো ম্যাপ (প্লান) তৈরী করে
খনন কাজ করছে। এজন্য ব্যক্তি মালিকানা জমির উপর দিয়ে খনন হচ্ছে। এছাড়া
প্রবাহমান এ-চ্যানেল বন্ধ না করে নদীর একপাশ দিয়ে নামমাত্র মাটি খনন
চলছে।
এলাকাবাসির অভিযোগ,ঠিকাদাররা স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী লোকজন-এর সাথে আতাত
করে এ-খনন কাজ করছে। এলাকার সাধারণ মানুষ তাদের ভয়ে মুখ খুলতে পারে না।
এজন্য ঠিকাদাররা অনিয়ম করলেও পার পেয়ে যাচ্ছে। প্রভাবশালী ব্যক্তিরা
তাদের ব্যক্তি স্বার্থ হাসিল করছে। যে কারনে আসছে বর্ষা মৌসুমে আবারও
প্লাবিত হওয়ার আশংকা রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সুত্রে জানাগেছে,কপোতাক্ষ নদের জলাবদ্ধতা
দুরীকরণ প্রকল্পের (১ম পর্যায়) আওয়াতায় ২০১১-১২ ও ২০১২-১৩ অর্থবছরে
শালিখা নদী ৯ কি.মি. পূনঃখনন কাজে ১০ কোটি ৯ লাখ ৪২ হাজার টাকা বরাদ্দ
দেয়া হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ববধায়নে মোঃ শামিম আহসান,সিসিএল-এমএসআই
(জেভি),এমজিআর-এসএভি (জেভি),মোঃ নূর হোসেন ও মেসার্স কপোতাক্ষ এন্টার
প্রাইজ নামের ৫ টি ঠিকাদারী প্রতিষ্টান এ-প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করছে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য গত ১৩ এপ্রিল শালিখা প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ-খনন
কাজের উদ্বোধন করেন।
একটি সংস্থার হিসাব মতে, প্রতি ১ শ’ ফুট দৈর্ঘ্যে ১ লাখ ৪৭ হাজার ঘনফুট
মাটি খনন করতে হবে। এতে ৩ লাখ ৬২ হাজার ৮ শ’ টাকা ব্যায় ধরা হয়েছে। অথচ
সেখানে প্রতি ১ শ’ ফুট দৈর্ঘ্যে ৩৬ হাজার ঘনফুট মাটি কাটা হচ্ছে। এতে
প্রায় ৮৮ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে ।
শালিখা গুচ্ছ গ্রামের মীর সাজ্জাত আলী জানান,আমার ৬৬ শতক জমি ছিল। এর
মধ্যে এখন খনন কাজ চলছে। এতে আমি  জমিটুকু হারাতে বসেছি।তবে সঠিক ভাবে
খনন হলে হারাতে হতো না এ-জমিটুকু।
দোহার-মুড়াগাছা গ্রামের অশোক সরকার জানান,কপোতাক্ষ নদীর সংযোগ স্থল খনন
না করলে এ-খনন কাজে আসবে না। কারন কপোতাক্ষ-এর সংযোগ স্থল (গুড়া) পলি পড়ে
ভরাট হয়ে গেছে। মাথার (আগার) দিকে আগে খনন করে কোন লাভ হবে না। এখানে
নিচু আর সংযোগ স্থল (মূখ) উঁচু রয়েছে।
তবে খনন কাজে নিয়োজিত স্কেবেটর চালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,এই
খননই শেষ খনন। পরে আবার খনন কোথাই। যে কাজ করা হচ্ছে সিডিউল অনুযায়ী করা
হচ্ছে।
খেশরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক গোলদার আব্দুল গফুর
জানান,ঠিকাদাররা নিয়ম অনুযায়ী খনন না করে তাদের ইচ্ছা মতো খনন করছে।
এ-খনন কোন কাজে আসবে না। কারন,কপোতাক্ষ নদ পলি পড়ে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। আগায়
(মাথায়) খনন করে কোন লাভ নেই।
নামপ্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন এলাকাবাসি জানান,প্রভাবশালী লোকদের নিয়ে
ঠিকাদাররা কাজ করছে। যে কারনে অনিয়ম নিয়োমে পরিনত হচ্ছে। তারা আসছে বর্ষা
মৌসুমের কথা চিন্তা করছে না। আমরা তলিয়ে মরলে ওদের কি ? ওরাতো টাকায়
বিক্রি হয়েছে।
মুড়াগাছা গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক খোরশেদ আলম
বলেন,নিয়ম অনুযায়ী খনন হচ্ছে না। খননে অনিয়ম-এর কারনে আসছে বর্ষা মৌসুমে
আবারও মানুষের ভোগান্তি বাড়বে। ঠিকাদাররা তাদের ইচ্ছা মতো কাজ করছে।
খনন কাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারের নিয়োগ প্রাপ্ত ইস্কান্দার মীর্জা
লাল্টু বলেন,কাজে কোন অনিয়ম হচ্ছে না। সামনে যে সময় আছে অসুবিধা টুকু ঠিক
করা হবে। কোন পর্যন্ত কাজ হয়েছে এমন প্রশ্ন’র জবাবে তিনি বলেন,প্রায় ৫
কি.মিটার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
খেশরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাষ্টার আমিনুল ইসলাম বলেন,যে আশা নিয়ে
খনন করা হচ্ছে তা কোন কাজে আসবে না। কারন,কপোতাক্ষ নদ ভরাট হয়ে যাচ্ছে।
যেখানে খনন হচ্ছে তা ছাড়া কপোতাক্ষ অনেকাংশে পলি পড়ে উঁচু হয়ে গেছে। এ
জন্যে এলাকার পানি নিস্কাশন হবে না।
ঠিকাদারী প্রতিষ্টান সিসিএল-এমএসআই (জেভি) দায়িত্বে থাকা বাবু চাকলাদার
অকপটে খননে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে উল্লেখ করে বলেন,সামনে দু’বছর কাজের
মেয়াদ আছে। আসছে বর্ষা মৌসুমে প্লাবিত এলাকার পানি নিস্কাশনের জন্য এখন
ক্যানেল কাটা হচ্ছে। পরবর্ত্তীতে এ-কাজ সিডিউল অনুযায়ী সম্পন্ন করা হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলি মোঃ মশিউর রহমান বলেন,খনন কাজে
ঠিকাদাররা যদি কোন অনিয়ম-দূর্নীতি করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এমন অভিযোগ এখনও আমার কাছে কেউ করেনি।