আশরাফ
আলী,
পাটকেলঘাটা (সাতক্ষীরা) থেকে
: কপোতাক্ষ সংযোগ
শালিখা
নদী
খননে
অনিয়ম
করা
হচ্ছে।
আর
টিআরএমভুক্ত জমি
মালিকরা প্রকল্প শেষ
হলেও
টাকা
পায়নি।
এনিয়ে
এলাকায়
আন্দোলন সংগ্রাম দানা
বেধে
উঠেছে।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এককালের গুরুত্বপূর্ণ নদ ছিল কপোতাক্ষ। স্রোতস্বিনী সেই কপোতাক্ষের বুকে পলি জমে ভরাটের কারণে ২০০০ সাল থেকে ৩ জেলার ৫টি উপজেলায় অব্যাহত রয়েছে জলাবদ্ধতা। এরই প্রেক্ষিতে সরকার গত বছর ২শ’ ৬২ কোটি টাকার বিনিময়ে কপোতাক্ষ নদ খনন প্রকল্প হাতে নেয়। কপোতাক্ষ খননের শুরুতেই বরাদ্দের টাকায় সংযোগ শালিখা খননে দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্চাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। ১০ ফুট গভীর ১৪০ ফুট চওড়া করে খননের কথা। কিন্তু ৪ ফুট গভীর ও ৬০ ফুট চওড়া করে স্কেভেটর মেশিন দিয়ে খননের কাজ চলছে। নদীর সীমানা নির্ধারণ ছাড়াই যত্রতত্র খননকৃত নদীর মাটি কেটে ফেলা হচ্ছে দুপার্শ্বে। টিআরএম পদ্ধতির সফলতার জন্য খনন করা হলেও নামমাত্র খননের কারণে নির্ধাতি পাখিমারা বিলে পানি তোলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। নামকাওয়াস্তে খননের কারণে বর্ষা মৌসুমে বিস্তীর্ণ এলাকা আবারো প্লাবিত হওয়ার আশংকা রয়েছে। এছাড়া টিআরএমের আওতায় পাখিমারা বিলে প্রায় ৭ হাজার বিঘা জমির মালিকরা আজো কোন ক্ষতিপূরণের টাকা না পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। প্রকল্প অনুযায়ী শালিখা নদী খনন, টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যনেজমেন্ট) বাস্তবায়ন ও এর আওতাভূক্ত জমি মালিকদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে ক্ষমতাসীন দলের লোকজন সমাবেশ করেছেন।
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার কপোতাক্ষ নদের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ প্রকল্পের আওতায় (১ম পর্যায়) ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে শালিখা নদী খননের কাজ শুরু হয়। স্থানীয় এমপি ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবুর রহমান ১৩ এপ্রিল শালিখা প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ খনন কাজের উদ্বোধন করেন। শুরু থেকে অদ্যাবধি খনন কাজে যে অনিয়ম ও স্বেচ্চাচারিতা হচ্ছে তা ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর মুখে মুখে। এ প্রকল্পে ৯ কিলোমিটার নদী খননে ৫টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ১৩টি স্কেভেটর মেশিন খনন কাজ করছে। রেকর্ড অনুযায়ী নদের সীমানা নির্ধারণ করে মাঝ দিয়ে খননের কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। ব্যক্তি মালিকানা জমির উপর দিয়েও খনন কাজ চালানো হচ্ছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ তুলেছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, কপোতাক্ষ নদের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ প্রকল্পের আওতায় (১ম পর্যায়) ২০১১-১২ ও ২০১২-১৩ অর্থ বছরে শালিখা নদী ৯ কিলোমিটার খনন কাজে ১০ কোটি ৯ লাখ ৪২ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্বাবধানে শামীম আহসান, সিসিকল-এমএলআই (জেভি), এমজিআর-এসএভি(জেভি) নূর হোসেন ও মেসার্স কপোতাক্ষী এন্টারপ্রাইজ নামে ৫টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এ প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করছে। এবর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে কপোতাক্ষ নদের সাথে সংযোগ শালিখা নদ পুনঃখননে নিয়মানুযায়ী কাজ হচ্ছে না। প্রায় ১০ ফুট গভীর করার কথা শিডিউলে থাকলেও গভীর করা হচ্ছে ৪ ফুট চওড়া ১৪০ ফুটের স্থলে ৬০ ফুট নির্ধারণ করে খনন করা হচ্ছে। এছাড়া খননকৃত মাটি নদীর দুপার্শ্বে যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে। এ সংক্রান্তে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে এলাকাবাসী প্রতিবাদ ছাড়াও সমাবেশ করেছে। এ ব্যপারে স্থানীয় পানি বিশেষজ্ঞ ও খেশরা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মাস্টার আমিনুল ইসলাম গ্রামের কাগজকে বলেন, পাখিমারা বিলে টিআরএম বাস্তবায়নের জন্য কপোতাক্ষের সাথে সংযোগ শালিখা নদী খনন করা হচ্ছে। কিন্তু ঠিকাদার এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের যোগসাজসে খননের নিয়ম মানা হচ্ছে না। শিডিউল অনযায়ী নদের উপরে ১৩৭ দশমিক ৭৯ ফুট, তলা ৯৮ দশমিক ৪২ ফুট এবং গভীরতা ৯ দশমিক ৮৪ ফুট খনন করার কথা। কিন্তু সে নিয়ম মানা হচ্ছেনা। উপর, তলা এবং গভীরতা সবক্ষেত্রে অর্ধেক নির্ধারণ করে খনন করা হচ্ছে। কাজেই দুর্নীতি ও স্বেচ্চাচারিতা এখন ওপেনসিক্রেট।
কপোতাক্ষ থেকে শালিখা গেট পর্যন্ত ৬ ফুট এবং এর উপরে ৪ ফুট গভীর করে খনন করার ফলে কপোতাক্ষের পানি একবার উপরে উঠলে আর নিচে নামতে পারবে না। সাথে বর্ষার পানি যোগ হয়ে কলাগাছি, মাদরা, দলুয়া, চরমুড়াগাছা, শালিখা বালিয়া গ্রাম ছাড়াও খেশরা, খলিষখালী, সরুলিয়া, নগরঘাটা, ধানদিয়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রায় ৫০টি গ্রাম তলিয়ে যাবে এবং পানি কপোতাক্ষে নামতে পারবে না। আগামী বছর আরো গভীর করে নদী পুনরায় খনন করা হবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমান এমন দাবি করলেও ভূক্তভোগীমহল ও এলাকাবাসী আশ্বস্ত হতে পারছেন না। তারা বলেছেন এই খননে টিআরএম বাস্তবায়িত হবে না।
এছাড়া ১৫ছিদ্র বিশিষ্ট শালিখা গেট দিয়ে কপোতাক্ষ হতে পাখিমারা বিলে পলিযুক্ত পানি তোলা হলে অচিরেই পলিজমে গেট বন্ধ হয়ে যাবে। তার চেয়ে গেটের সামনে থেকে বিলে পলিযুক্ত পানি উঠিয়ে স্বচ্ছ পানি গেটের ভিতর দিয়ে বের করে দিলে শালিখা নদ ঠিক থাকবে। নতুবা আবারো কয়েক বছরের মধ্যে শালিখা নদী বন্ধসহ তীরবর্তী এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়বে এমন বক্তব্য দিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল।
খেশরা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আরো জানান, প্রকল্প সম্পর্কে স্থানীয় জনগণসহ সচেতন মহলকে অবহিত না করেই পানি উন্নয়ন বোর্ড শালিখা খননে ব্যাপক দুর্নীতি করছে এমন অভিযোগের কারণে এলাকার ৩ ইউনিয়নবাসী ও ক্ষমতাসীন দলের লোকজন মিছিল সমাবেশ এমনকি নির্বাহী প্রকৌশলীকে অপসারণের জন্য উর্দ্ধতন কর্মকর্তা বরাবর দরখাস্ত পাঠিয়েছেন। শালিখা নদী খননে দুর্নীতিন ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমান গ্রামের কাগজকে জানান, ২ বছর মেয়াদী প্রকল্পের কাজ চলছে। এ বছর কাজ শুরু করতে একটু দেরি হয়েছে। বিধায় জলাবদ্ধতা আপাতত মুক্ত করার জন্য সামান্য খননকাজ হচ্ছে। আগামী ডিসেম্বরের শুরু থেকে পূর্ণাঙ্গ ভাবে খননকাজ করা হবে। একবারে যদি ১০ ফুট গভীর করে খনন করা হয় তাহলে ভেঙ্গে পড়তে পারে। এজন্য লেয়ার অনযায়ী খনন করা হচ্ছে। সামনে শুকনো মৌসুমে শিডিউল মাফিক খননকাজ শেষ করা হবে।
এদিকে কপোতাক্ষ খনন প্রকল্পের আগে পাখিমারা বিলে টিআরএম চালু করার জন্য শালিখা নদী খনন প্রায় শেষের দিকে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, কপোতাক্ষ নদের অববাহিকায় জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প (১ম পর্যায়) পাখিমারা বিলে টিআরএম প্রকল্পের ফেরিফেরিয়াল বাঁধ নির্মাণ বাবদ ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮ হাজার ১৬ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নে ২০১১-১২ অর্থ বছরে ১২ হাজার ৮শ ৭০ মিটার দৈর্ঘের ৩ মিটার উচু বাঁধ নির্মাণ চলতি সালের ১২ মার্চ থেকে শুরু করে ২৩ জুন শেষ হবার কথা। সে হিসাবে শনিবার টিআরএম প্রকল্পের বাঁধের কাজ শেষ হয়েছে। এই প্রকল্পে ৭ হাজার বিঘা জমি অধিগ্রহণ করা হলেও কোন জমির মালিক আজো কোন টাকা পায়নি। বালিয়া গ্রামের কপিল উদ্দীন সানা (৬০) জানান, পাখিমারা বিলে তার ২০ বিঘা জমি রয়েছে। কিন্তু কোন টাকা পায়নি। এখনো ক্ষতিপূরণ বা টাকার বিষয়ে কেউ কোন কথা বলেনি। এমনি অভিযোগ একই গ্রামের ছকিল উদ্দীন, শাহজাহান সানা, হামিদ মোড়ল, দরবেশ মোড়লসহ শত শত জমি মালিকের।
টিআরএম প্রকল্পে বিঘা প্রতি ৮ হাজার টাকা হিসাবে দেয়া হবে জানিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমান বলেন, টিআরএমভূক্ত জমি মালিকদের তালিকা ও তাদের জমির পরিমাণ নির্ধারণ করার জন্য জেলা প্রশাসন কাজ করছে। তালিকা তৈরি চলছে আগামী মাসে আমরা হাতে পারো। তবে বিঘা প্রতি যে টাকা প্রদান করা হবে তার মূল্যায়ন করবে জেলা প্রশাসন।
তবে কলাগাছি, শালিখা, খেশরা, বালিয়া ও দরমুড়াগাছাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে শালিখা নদী খননের বহুমাত্রিক চিত্র। ৪ ফুট গভীর ও ৬০ ফুট প্রশস্ত করে খননকৃত মাটি নদের দুপার্শ্বে যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে। এলাকার অভিজ্ঞ মহল ও ভুক্তভোগীরা জানান, চলতি বর্ষা মৌসুমে খননকৃত মাটি ধুয়ে নদীবক্ষে পড়ে আবারো বদ্ধ জলাশয়ে পরিণত হবে এবং এই খননের পিছনে সরকার প্রতিবছর যে কোটি কোটি টাকা খরচ করবে তাতে লাভবান হবে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এককালের গুরুত্বপূর্ণ নদ ছিল কপোতাক্ষ। স্রোতস্বিনী সেই কপোতাক্ষের বুকে পলি জমে ভরাটের কারণে ২০০০ সাল থেকে ৩ জেলার ৫টি উপজেলায় অব্যাহত রয়েছে জলাবদ্ধতা। এরই প্রেক্ষিতে সরকার গত বছর ২শ’ ৬২ কোটি টাকার বিনিময়ে কপোতাক্ষ নদ খনন প্রকল্প হাতে নেয়। কপোতাক্ষ খননের শুরুতেই বরাদ্দের টাকায় সংযোগ শালিখা খননে দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্চাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। ১০ ফুট গভীর ১৪০ ফুট চওড়া করে খননের কথা। কিন্তু ৪ ফুট গভীর ও ৬০ ফুট চওড়া করে স্কেভেটর মেশিন দিয়ে খননের কাজ চলছে। নদীর সীমানা নির্ধারণ ছাড়াই যত্রতত্র খননকৃত নদীর মাটি কেটে ফেলা হচ্ছে দুপার্শ্বে। টিআরএম পদ্ধতির সফলতার জন্য খনন করা হলেও নামমাত্র খননের কারণে নির্ধাতি পাখিমারা বিলে পানি তোলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। নামকাওয়াস্তে খননের কারণে বর্ষা মৌসুমে বিস্তীর্ণ এলাকা আবারো প্লাবিত হওয়ার আশংকা রয়েছে। এছাড়া টিআরএমের আওতায় পাখিমারা বিলে প্রায় ৭ হাজার বিঘা জমির মালিকরা আজো কোন ক্ষতিপূরণের টাকা না পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। প্রকল্প অনুযায়ী শালিখা নদী খনন, টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যনেজমেন্ট) বাস্তবায়ন ও এর আওতাভূক্ত জমি মালিকদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে ক্ষমতাসীন দলের লোকজন সমাবেশ করেছেন।
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার কপোতাক্ষ নদের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ প্রকল্পের আওতায় (১ম পর্যায়) ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে শালিখা নদী খননের কাজ শুরু হয়। স্থানীয় এমপি ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবুর রহমান ১৩ এপ্রিল শালিখা প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ খনন কাজের উদ্বোধন করেন। শুরু থেকে অদ্যাবধি খনন কাজে যে অনিয়ম ও স্বেচ্চাচারিতা হচ্ছে তা ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর মুখে মুখে। এ প্রকল্পে ৯ কিলোমিটার নদী খননে ৫টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ১৩টি স্কেভেটর মেশিন খনন কাজ করছে। রেকর্ড অনুযায়ী নদের সীমানা নির্ধারণ করে মাঝ দিয়ে খননের কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। ব্যক্তি মালিকানা জমির উপর দিয়েও খনন কাজ চালানো হচ্ছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ তুলেছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, কপোতাক্ষ নদের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ প্রকল্পের আওতায় (১ম পর্যায়) ২০১১-১২ ও ২০১২-১৩ অর্থ বছরে শালিখা নদী ৯ কিলোমিটার খনন কাজে ১০ কোটি ৯ লাখ ৪২ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্বাবধানে শামীম আহসান, সিসিকল-এমএলআই (জেভি), এমজিআর-এসএভি(জেভি) নূর হোসেন ও মেসার্স কপোতাক্ষী এন্টারপ্রাইজ নামে ৫টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এ প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করছে। এবর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে কপোতাক্ষ নদের সাথে সংযোগ শালিখা নদ পুনঃখননে নিয়মানুযায়ী কাজ হচ্ছে না। প্রায় ১০ ফুট গভীর করার কথা শিডিউলে থাকলেও গভীর করা হচ্ছে ৪ ফুট চওড়া ১৪০ ফুটের স্থলে ৬০ ফুট নির্ধারণ করে খনন করা হচ্ছে। এছাড়া খননকৃত মাটি নদীর দুপার্শ্বে যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে। এ সংক্রান্তে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে এলাকাবাসী প্রতিবাদ ছাড়াও সমাবেশ করেছে। এ ব্যপারে স্থানীয় পানি বিশেষজ্ঞ ও খেশরা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মাস্টার আমিনুল ইসলাম গ্রামের কাগজকে বলেন, পাখিমারা বিলে টিআরএম বাস্তবায়নের জন্য কপোতাক্ষের সাথে সংযোগ শালিখা নদী খনন করা হচ্ছে। কিন্তু ঠিকাদার এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের যোগসাজসে খননের নিয়ম মানা হচ্ছে না। শিডিউল অনযায়ী নদের উপরে ১৩৭ দশমিক ৭৯ ফুট, তলা ৯৮ দশমিক ৪২ ফুট এবং গভীরতা ৯ দশমিক ৮৪ ফুট খনন করার কথা। কিন্তু সে নিয়ম মানা হচ্ছেনা। উপর, তলা এবং গভীরতা সবক্ষেত্রে অর্ধেক নির্ধারণ করে খনন করা হচ্ছে। কাজেই দুর্নীতি ও স্বেচ্চাচারিতা এখন ওপেনসিক্রেট।
কপোতাক্ষ থেকে শালিখা গেট পর্যন্ত ৬ ফুট এবং এর উপরে ৪ ফুট গভীর করে খনন করার ফলে কপোতাক্ষের পানি একবার উপরে উঠলে আর নিচে নামতে পারবে না। সাথে বর্ষার পানি যোগ হয়ে কলাগাছি, মাদরা, দলুয়া, চরমুড়াগাছা, শালিখা বালিয়া গ্রাম ছাড়াও খেশরা, খলিষখালী, সরুলিয়া, নগরঘাটা, ধানদিয়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রায় ৫০টি গ্রাম তলিয়ে যাবে এবং পানি কপোতাক্ষে নামতে পারবে না। আগামী বছর আরো গভীর করে নদী পুনরায় খনন করা হবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমান এমন দাবি করলেও ভূক্তভোগীমহল ও এলাকাবাসী আশ্বস্ত হতে পারছেন না। তারা বলেছেন এই খননে টিআরএম বাস্তবায়িত হবে না।
এছাড়া ১৫ছিদ্র বিশিষ্ট শালিখা গেট দিয়ে কপোতাক্ষ হতে পাখিমারা বিলে পলিযুক্ত পানি তোলা হলে অচিরেই পলিজমে গেট বন্ধ হয়ে যাবে। তার চেয়ে গেটের সামনে থেকে বিলে পলিযুক্ত পানি উঠিয়ে স্বচ্ছ পানি গেটের ভিতর দিয়ে বের করে দিলে শালিখা নদ ঠিক থাকবে। নতুবা আবারো কয়েক বছরের মধ্যে শালিখা নদী বন্ধসহ তীরবর্তী এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়বে এমন বক্তব্য দিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল।
খেশরা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আরো জানান, প্রকল্প সম্পর্কে স্থানীয় জনগণসহ সচেতন মহলকে অবহিত না করেই পানি উন্নয়ন বোর্ড শালিখা খননে ব্যাপক দুর্নীতি করছে এমন অভিযোগের কারণে এলাকার ৩ ইউনিয়নবাসী ও ক্ষমতাসীন দলের লোকজন মিছিল সমাবেশ এমনকি নির্বাহী প্রকৌশলীকে অপসারণের জন্য উর্দ্ধতন কর্মকর্তা বরাবর দরখাস্ত পাঠিয়েছেন। শালিখা নদী খননে দুর্নীতিন ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমান গ্রামের কাগজকে জানান, ২ বছর মেয়াদী প্রকল্পের কাজ চলছে। এ বছর কাজ শুরু করতে একটু দেরি হয়েছে। বিধায় জলাবদ্ধতা আপাতত মুক্ত করার জন্য সামান্য খননকাজ হচ্ছে। আগামী ডিসেম্বরের শুরু থেকে পূর্ণাঙ্গ ভাবে খননকাজ করা হবে। একবারে যদি ১০ ফুট গভীর করে খনন করা হয় তাহলে ভেঙ্গে পড়তে পারে। এজন্য লেয়ার অনযায়ী খনন করা হচ্ছে। সামনে শুকনো মৌসুমে শিডিউল মাফিক খননকাজ শেষ করা হবে।
এদিকে কপোতাক্ষ খনন প্রকল্পের আগে পাখিমারা বিলে টিআরএম চালু করার জন্য শালিখা নদী খনন প্রায় শেষের দিকে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, কপোতাক্ষ নদের অববাহিকায় জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প (১ম পর্যায়) পাখিমারা বিলে টিআরএম প্রকল্পের ফেরিফেরিয়াল বাঁধ নির্মাণ বাবদ ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮ হাজার ১৬ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নে ২০১১-১২ অর্থ বছরে ১২ হাজার ৮শ ৭০ মিটার দৈর্ঘের ৩ মিটার উচু বাঁধ নির্মাণ চলতি সালের ১২ মার্চ থেকে শুরু করে ২৩ জুন শেষ হবার কথা। সে হিসাবে শনিবার টিআরএম প্রকল্পের বাঁধের কাজ শেষ হয়েছে। এই প্রকল্পে ৭ হাজার বিঘা জমি অধিগ্রহণ করা হলেও কোন জমির মালিক আজো কোন টাকা পায়নি। বালিয়া গ্রামের কপিল উদ্দীন সানা (৬০) জানান, পাখিমারা বিলে তার ২০ বিঘা জমি রয়েছে। কিন্তু কোন টাকা পায়নি। এখনো ক্ষতিপূরণ বা টাকার বিষয়ে কেউ কোন কথা বলেনি। এমনি অভিযোগ একই গ্রামের ছকিল উদ্দীন, শাহজাহান সানা, হামিদ মোড়ল, দরবেশ মোড়লসহ শত শত জমি মালিকের।
টিআরএম প্রকল্পে বিঘা প্রতি ৮ হাজার টাকা হিসাবে দেয়া হবে জানিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমান বলেন, টিআরএমভূক্ত জমি মালিকদের তালিকা ও তাদের জমির পরিমাণ নির্ধারণ করার জন্য জেলা প্রশাসন কাজ করছে। তালিকা তৈরি চলছে আগামী মাসে আমরা হাতে পারো। তবে বিঘা প্রতি যে টাকা প্রদান করা হবে তার মূল্যায়ন করবে জেলা প্রশাসন।
তবে কলাগাছি, শালিখা, খেশরা, বালিয়া ও দরমুড়াগাছাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে শালিখা নদী খননের বহুমাত্রিক চিত্র। ৪ ফুট গভীর ও ৬০ ফুট প্রশস্ত করে খননকৃত মাটি নদের দুপার্শ্বে যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে। এলাকার অভিজ্ঞ মহল ও ভুক্তভোগীরা জানান, চলতি বর্ষা মৌসুমে খননকৃত মাটি ধুয়ে নদীবক্ষে পড়ে আবারো বদ্ধ জলাশয়ে পরিণত হবে এবং এই খননের পিছনে সরকার প্রতিবছর যে কোটি কোটি টাকা খরচ করবে তাতে লাভবান হবে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
No comments:
Post a Comment